আপনার হাতে যদি একটি কমপ্লিট প্রোডাক্ট থাকে আর মনে যদি আকাঙ্ক্ষা থাকে এটাকে বাজারজাত করার তাহলে হাতে শুধু একটি কাজ-ই বাকি থাকে, পণ্যটিকে বিক্রয়ের মাধ্যমে একটি ভালো লভ্যাংশ অর্জন। সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে, ই-কমার্স অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার এক আকর্ষণীয় মাধ্যম। কিন্তু ই-কমার্সে কাজ শুরু করার আগে ব্যবসায়িক কিছু কৌশল আয়ত্তে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি পরীক্ষামূলক ভাবে ইকমার্স ব্যবসা শুরু করতে চান, স্বল্প বিনিয়োগে তবে সেটিও করতে পারবেন। স্বল্প ঝুঁকি নিয়ে যারা শুরু করতে চান তাদের জন্যেই আমাদের আজকের পোস্ট।

আপনার ব্যবসা কতটুকু সফল হবে তা নির্ভর করছে পন্যটিকে পরিচিত করার জন্য নেয়া ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলের উপর। মাথায় রাখতে হবে যে ইন্টারনেটে লাখ লাখ পণ্য আপনারটির সাথে প্রতিযোগিতা করছে এবং আপনাকে ইন্টারনেটের স্পটলাইট নিজের দিকে আনতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন অর্থবহ বিজ্ঞাপন, সাথে থাকতে পারে প্রমোশনাল অফার কিংবা “Freebie”(অনলাইনে ফ্রি আপনার পণ্যের স্যাম্পল দেয়া)।

খুব সহজেই আপনি একটি ওয়েব স্টোর খুলে ফেলতে পারবেন কিন্তু আপনার ব্যবসা থেকে স্থিতিশীল একটি লভ্যাংশ অর্জন করতে আপনাকে স্মার্ট হতে হবে আর প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হল আসলে লেগে থাকার বিকল্প নেই। লেগে থাকলে সফলতা আপনার কাছে ধরা দিতে বাধ্য। আপনার ব্যবসাটি সফলভাবে শুরু করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কিছু টিপসঃ

খুঁজে বের করুন ফ্রি অনলাইন স্টোর

ই-কমার্সের বিপ্লবে এখন সেলারের চেয়ে সেলিং পয়েন্ট বেশি।এখন আপনার টাকার এমাউন্ট অনুযায়ী আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।যে কোন ব্যবসায় ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। অনলাইনে প্লাটফর্ম তৈরি করার জন্য আপনার কিছু বেসিক জিনিস হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এমন কিছু প্লাটফর্ম আছে যারা আপনাকে ফ্রিতে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটটি চালানোর সুযোগ দিবে। শুরু করার জন্য এরকম সুযোগ আর দ্বিতীয়টি নেই।

বিক্রির জন্যে সোশ্যাল মিডিয়া

কাস্টমারদের কাছে নতুন একটি পণ্য স্বভাবতই অপিরিচিত আর এই সমস্যাটি দূর করার জন্য আপনাকে সবার কাছে পন্যটির ইনফরমেশন পৌঁছে দিতে হবে। আপনার উচিত হবে যতগুলো ফ্রি সাইট আছে সব কাজে লাগানো। Facebook, Viber, Whatsapp দিয়েই শুরু করুন, কাছের মানুষদের সামনে আপনার প্রোডাক্টটি তুলে ধরুন আর তাদের বলুন ছড়িয়ে দিতে।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটগুলো থেকে আপনি পাবেন মিলিয়নেরও বেশি আগ্রহী ক্রেতা, তাদের কাছে সহজে আপনার পন্যটি উপস্থাপনের সুযোগ এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করুন আর আমরা সবাই জানি এসব সাইটে একাউন্ট বা পেজ খুলতে পয়সা লাগে না।(ভবিষ্যতে লাগার সম্ভাবনাও ক্ষীণ)

ই-কমার্সের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম এখন Facebook। ফেসবুক আপনাকে সুযোগ করে দিবে খুব সহজেই আপনার পণ্যটির ডিটেইলস তুলে ধরার, ছবি আপলোড করার। সবকিছু ছাপিয়ে ফেসবুক আপনাকে সুযোগ করে দিচ্ছে কাস্টমারের ফিডব্যাক সরাসরি নেয়ার যা আপনার ব্যবসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি টুইটারও ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে যদি আপনি লক্ষ করেন আপনার ফলোয়ার বেড়ে যাচ্ছে তাহলে বুঝবেন আপনার পন্যটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এটা আপনার আত্নবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।

অতি সাম্প্রতিক কালে ইন্সটাগ্রামও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তরুণদের মাঝে। আর ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম কিনে নেয়ার পর থেকে এখানেও ব্যবসায়িক পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে আপনার পণ্যের আকর্ষনীয় ছবি পোস্ট করতে পারেন। আবার ফেসবুক পেইজেও শেয়ার করতে পারেন। মোটকথা সব সোশ্যাল মিডিয়াতেই চাই সরব ও স্মার্ট উপস্থিতি।

ইমেইল মার্কেটিংঃ এখনো যথেষ্টই কার্যকরী

এই কাজটি যদিও একদম ফ্রি না কিন্তু এটা করার জন্য আপনার আহামরি কোন খরচও হবে না। আপনার পরিচিত সবার কাছে আপনার প্রোডাক্ট আর অনলাইন স্টোরটির ব্যপারে ইমেইল করুন। ইমেইলে অবশ্যই ডিস্কাউন্ট বা কুপন রাখতে ভুলবেন না। এই সহজ টেকনিকটি ৯০% সময়ই কাজ করবে। অনেক ফ্রি ইমেইল মার্কেটিং সার্ভিস আছে যেখানে আপনি মাসে ১০-১৫ হাজার ইমেইল ফ্রিতে পাঠাতে পারবেন। একটু বুদ্ধি করে একটি ভালো ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে অনলাইন ক্রেতাদের। আশেপাশে আপনার অনেক পরিচিত মানুষজন হয়তো আপনাকে এই ধরনের তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারে। ঠিক এরকম একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা এখানেই দিয়ে দিচ্ছি আপনাদের সুবিধার্থেঃ Mailchimp, BenchMark Email.

শুরু করার ভয়টা জয় করতে পারলেই আসলে সফলতার পথে অনেকটুকু হাঁটা হয়ে যায়। সামনের পথ শ্বাপদসংকুল হতে পারে। কিন্তু তাই ভেবে বসে থাকলে তো আর শুরুই করা সম্ভব হবে না। তাই আপনার তূণে যাই আছে তাই নিয়ে নেমে পড়তে দ্বিধা করবেন না। চোখ কান খোলা রাখুন, নিয়মিত প্রোডাক্ট সোর্সিং এর ব্যবস্থা রাখুন। আশেপাশে অনেক ফ্রি উপকরণ আছে প্রযুক্তির এই দিনে। আশা করি আপনি ঠেকবেন না।

চাই নিজের ফ্রি অনলাইন স্টোর

(Visited 827 times, 1 visits today)
1

Comments