একটি অনলাইন ইকমার্স ওয়েবসাইট আর পাঁচ দশটা ওয়েবসাইটের মত নয়। যেহেতু এই সাইটে কাস্টমাররা আসেন কিছু একটা কিনতে; খরচ করতে। তাই এই ধরনের ওয়েবসাইট ডিজাইনের সময় কিছু খুঁটিনাটি ব্যাপার খেয়াল রাখা উচিত। আপনার ওয়েবসাইটের বাজে ডিজাইনের কারণে কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটে আগ্রহ হারাতে পারেন শুরুতেই। জেনে নিন ওয়েবসাইট ডিজাইনের ব্যাপারে কোন ব্যাপারগুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

অনাহুত Pop Ups

ভিজিটর বা কাস্টমারের কাছে আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন তথ্য বা বিজ্ঞাপণ তুলে ধরতে আপনি নানান ধরণের Pop Ups ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা যেন কখনোই অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় কিছু না হয়। বেশিরভাগ সময় তা ভিজিটরের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় Pop Ups সঠিকভাবে পণ্য মেলে ধরতে বাঁধা সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র তিন ধরণের Pop Ups আপনি ব্যবহার করতে পারেন; সাবস্ক্রিপশনের জন্য, যোগাযোগের জন্য এবং পণ্য বাছাইয়ের পরে কাস্টমারের কাছ থেকে ফাইনাল কনফার্মেশনের জন্য।

 

মোবাইলে ঠিকমত কাজ না করা

আজকাল সবাই শপিং থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সবকিছুই স্মার্টফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল রেস্পন্সিভ কিনা। মোবাইলে যেন ওয়েবসাইটের সকল কার্য ঠিকমত চলে এবং ওয়েবসাইটের ডিজাইন যেন ব্রেকডাউন না করে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এসব ব্যাপারে সচেতন না হলে নিঃসন্দেহে আপনি কাস্টমারের একটি বড় অংশ হারাবেন।

mobile_view

 

ভিডিও/অডিও এর অটো প্লে

অনেক ওয়েবসাইটে ঢোকা মাত্র বিজ্ঞাপন বা প্রাসঙ্গিক/অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও বা অডিও অটো প্লে হয়ে যায় যা কাস্টমারের মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায় এবং বিরক্তির উদ্রেগ করে। ভিডিওর কারণে ওয়েবসাইট লোড হতেও বেশি সময় লাগে। বাজে মানের অডিও ব্যাকগ্রাউন্ডে চললে কাস্টমার বিরক্ত হন। তাই এগুলো ওয়েবসাইটে পরিহার করা উচিৎ।

 

অগোছালো ডিজাইন এবং কন্টেন্ট

আপনার ওয়েবসাইট হওয়া উচিৎ সুনির্দিষ্ট এবং সাধারণ। ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত বা অযাচিত ছবি, ছোট/বড় বিভিন্ন ফন্টের মিশ্রণ, লম্বা প্যারাগ্রাফ, দূর্বোধ্য শব্দের ব্যবহার, বাংলা ইংরেজীর মিশ্রণ ইত্যাদি বেশিরভাগ সময় কাস্টমারের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেগ করে। এসব ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে ওয়েবসাইট সুন্দর করে গুছিয়ে তৈরী করলে সহজেই কাস্টমারকে আকৃষ্ট করা যায়।

 

চকমকে রঙের ব্যবহার

আপনার ওয়েবসাইট এমনভাবে সাজাবেন না যেন ৯০ এর নায়ক গোবিন্দের পোশাকের কথা মনে পরে যায়! চকমকে রঙ যেমন টিয়া, গোলাপী ব্যবহার না করাই ভাল। ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ড, অনিয়ন্ত্রিত শেইড, ভুল টেক্সট কালার কাস্টমারকে বিভ্রান্ত করে। মোদ্দা কথা, ওয়েবসাইটে ঢুকে কাস্টমার যেন হকচকিয়ে না যান! রঙের ব্যবহার এমন হওয়া উচিৎ যেন তিনি চোখের আরাম পান। মনে রাখবেন, চকমকে রঙ নয়, আপনার মানসম্পন্ন পণ্যই কাস্টমারের মনোযোগ কেড়ে নিবে।

 

দূর্বোধ্য দিকনির্দেশনা

ওয়েবসাইটের দিকনির্দেশনা সহজবোধ্য হতে হবে। কাস্টমার ওয়েবসাইটে এসে পরবর্তীতে কোথায় যাবে তা নিয়ে যদি বিভ্রান্ত হোন তবে উনি আগ্রহ হারাবেন। প্রতিটা বাটনের দিকনির্দেশনার ব্যাপারে কাস্টমারকে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। ওয়েবসাইটটি সবার জন্য বোধগম্য করে সাজাতে হবে কারণ কেউই ম্যানুয়াল পড়ে পড়ে ওয়েবসাইটে ঘুরাঘুরি করতে চান না।

 

জটিল এবং শর্তসাপেক্ষ ফর্ম

ওয়েবসাইটের যে কোন ফর্ম সহজ এবং সাধারণ হওয়া উচিৎ। শর্তসাপেক্ষ ব্যাপার যত কম রাখা যায় তত ভাল। যেমন সাবস্ক্রিপশনের ফর্মে পাসওয়ার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে আপার-কেইস/লোয়ার-কেইস/ডিজিট ইত্যাদির সন্নিবেশনে কাস্টমার অনেক সময় বিরক্তি বোধ করে। যোগাযোগ করার ফর্মে যতটা সম্ভব কম এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে কাজ করা উচিৎ। ফর্ম পুরণের এই ব্যাপারগুলো সহজ করে তুলে ধরলে কাস্টমারের সাথে ভাব আদানপ্রদান অনেক দ্রুত এবং অর্থবহ হয়।

 

তাৎক্ষণিক যোগাযোগ মাধ্যমের অভাব

ওয়েবসাইটে কাস্টমার যদি কোন বিষয় না বুঝেন বা যেকোন ব্যাপারে সাহায্যপ্রার্থী হোন তখন তিনি যেন দ্রুত কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন সেজন্যে সঠিক মাধ্যম ব্যবহার করা উচিৎ। ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ সময় সাপেক্ষ্য এবং এই ক্ষেত্রে খুব বেশি কার্যকর না। মোবাইল/ফোন নাম্বার ব্যবহার করা যেতে পারে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি তাৎক্ষণিক চ্যাটের অপশন রাখা যায়। সেক্ষেত্রে কাস্টমার যে কোন সমস্যায় অনায়েসেই চ্যাটের মাধ্যমে কাস্টমার কেয়ার থেকে সাহায্য পেতে পারেন।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষ্ক্রিয়তা 

social-icon-widget

অনেক সময় ওয়েবসাইটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর সংযুক্তি না থাকলে কাস্টমার সেই ওয়েবসাইটের উপর আস্থা হারায়। ওয়েবসাইটে ফেসবুক, টুইটার, গুগলপ্লাস ইত্যাদির সংযুক্তি থাকা উচিৎ এবং সামাজিক মাধ্যম গুলোতে যেন তথ্য বা বিজ্ঞাপণ হালনাগাদ থাকে যে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। নিজের ব্র্যান্ড এবং পণ্যকে ওয়েবসাইটের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও সমানভাবে তুলে ধরতে হবে। এর মাধ্যমে ক্রেতা বিক্রেতার মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।

 

আধুনিক ওয়েবসাইটের এই সব বৈশিষ্ট্য কেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে স্টোরিয়ার থিম ডিজাইনের সময়। স্টোরিয়ার রয়েছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানের আকর্ষনীয় থিম। এর মধ্য থেকে আপনি বেছে নিতে পারবেন আপনার অনলাইন স্টোরের সাথে মানানসই থিম। আগামীতে আরও নিত্যনতুন ডিজাইন এর ওয়েবসাইটের জন্যে চোখ রাখুন স্টোরিয়াতে।

চাই একটি পরিচ্ছন্ন অনলাইন স্টোর

(Visited 433 times, 1 visits today)
2

Comments