হার্ভার্ড এর হোস্টেলে জন্ম নেয়া সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইট ফেসবুক আজ ১৫০০ মিলিয়ন ইউজার ছাড়িয়ে গেছে। শুধুমাত্র অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও আজ ফেসবুক অনলাইন ব্যবসায়ীদের খুব প্রিয় একটি নাম। ট্রেন্ড এখন এমন, ১০ বছরের পিচ্চি থেকে শুরু করে ৯০ বছরের মুরুব্বি, সবাই আছেন ফেসবুকে। কাজেই ব্যবসায়ীরা নামে মাত্র খরচে নাগাল পাচ্ছেন বিশাল কাস্টমার বেজের। ভেবে দেখুন, রাস্তার বিলবোর্ডে একটা বিজ্ঞাপন দিতে কত টাকা যাবে আর কয়জন মানুষই বা দেখবে। আর ফেসবুকে আপনি বিলবোর্ডের খরচের নুন্যতম অংশ দিয়েই পাচ্ছেন ১০ গুণ এক্সপোজার।

বাংলাদেশের কথাই চিন্তা করি; ২.৮ মিলিয়ন বাংলাদেশি ফেসবুক ব্যবহার করেন। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের কথা বাদ দিলাম, আপনি ফেসবুকের ১ মিলিয়ন বাংলাদেশিকেও অনেক কম খরচে রিচ করতে পারবেন যদি আপনার কিছু স্ট্রাটেজি জানা থাকে। এখানেও অনেক পলিসির শরণাপন্ন হতে হবে আর অনেক সময় ও মানসিক শ্রম দিতে হবে।

 

ফেসবুকের ব্যবসায়িক ব্যবহার কিভাবে করবেন?

আপনি চাইলে ফেসবুক থেকে মানুষ আপনার সাইটে নিয়ে যেতে পারেন অথবা ফেসবুকেই আপনার প্রোডাক্ট ভাল মত তুলে ধরতে পারেন। আপনার জন্য কিছু টিপসঃ

.ফ্যান পেজঃ

প্রথমত আপনার একটা আইডেন্টিটি থাকতে হবে। ফেসবুকে এসে আপনি পোস্ট করবেন কোথায়? একটা পেজ আর আইডির মাঝে খুব বেশি তফাত নেই। খুব গুছিয়ে ডেসক্রিপশনটি লিখে ফেলুন। কন্টাক্ট ইনফরমেশন, ইমেল অ্যাড্রেস আর আপনার সাইটের লিঙ্ক দিতে একদম ভুলবেন না। আপনার পছন্দমত অ্যাডিশনাল ইনফরমেশন দিন। আপনার প্রোফাইলে ঢুকেই সবার আগে নজরে আসে আপনার কভার ফটো, পেজের ক্ষেত্রেও তাই। তাই এমন কভার দেয়ার চেষ্টা করুন যেটা দেখে ভিজিটর রা আপনার সাইট বা আপনার প্রোডাক্ট দেখতে আগ্রহী হবে। প্রোফাইল পিকে ব্র্যান্ডের লোগোটাই ব্যবহার করা শ্রেয়।

.যত লাইক তত হিটঃ

একটা ফ্যান পেজে কয়টা লাইক আছে এটা পেজটির তথা ব্র্যান্ডটির জনপ্রিয়তা আর কতদুর পর্যন্ত এর নাগাল তা যাচাই করে। অ্যাডিডাসের পেজে যত লাইক, ইউরোপিয়ান স্পোর্টস শপের পেজে নিশ্চয় তত লাইক হবে না। কাজেই, বুঝতে পারছেন লাইকের সংখ্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মান নির্ধারক। লাইক বাড়ানোর জন্য আপনি ফটো, ভিডিও, কুইজ, ট্রিভিয়া ইত্যাদি টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন। আমি গুটিকয়েক কৌশল তুলে ধরছি।

.ইন্টার‍্যাক্টিভ পোস্ট দিনঃ

ফেসবুকের অধিকাংশ মানুষই চমকপ্রদ কিছু আশা করেন। কাজেই আপনি খুব রিসেন্টলি ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নিয়ে কুইজ, কিংবা মজার কোন পোস্ট দিতে পারেন তাহলে খুব সহজেই তাদের নজর কাড়তে পারবেন। ক্রিকেট ফেসবুকারদের খুব সহজেই আকৃষ্ট করে। আপনি এমন কিছু করুন যেখানে সঠিক প্রেডিকশনদাতার জন্য পুরস্কার থাকবে। আপনার যদি অনলাইন ফুড সার্ভিস হয়, তাহলে বলে দিন এই দল জিতলে ১০% ডিসকাউন্ট। অবশ্যই ফেসবুক ক্রাউডের মেন্টালিটি বুঝে পোস্ট করবেন, নাহলে কিছু বুঝার আগে নিজের পেজ ব্র্যান্ড নেম সব খুইয়ে বসে থাকবেন।

.ডিস্কাউন্ট অফারঃ

আপনি যদি মাত্র আপনার পেজটির যাত্রা শুরু করে থাকেন, তাহলে প্রথম ২০০ লাইকারের জন্য ১০% ডিস্কাউন্ট অফার করতে পারেন। খুব সীমিত সময়ের জন্য কোন জমকালো অফার রাখতে পারেন যা কাস্টমারদের আকৃষ্ট করবে আর যারা অফারটি দেখবে তারা চ্যাট করতে থাকা মানুষটির সাথেও শেয়ার করবে, ফলে আপনার লাইক বেড়ে যাবে, ব্র্যান্ড নেমও ছড়িয়ে পড়বে।

. ফটো গ্যলারি ও ভিডিও রাখুনঃ

আপনার প্রোডাক্টের আকর্ষণীয় ছবিসহ ফটোগ্যলারি থাকা খুবই জরুরি। প্রোডাক্টের সবচেয়ে ভালো ছবি গুলো সামনের দিকে রাখার চেষ্টা করবেন, যাতে পেজে ঢুকে আগে সেদিকে চোখ যায়।

আপনি যদি ফেসবুক ইউজার হয়ে থাকেন, তাহলে দেখবেন কিছু প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড কিছুদিন পর পর পেজ থকে ভিডিও শেয়ার করেন। সাধারণত তাদের এই অ্যাড গুলো টিভিতেও দেখানো হয়। ক্রিয়েটিভ হোন, খুব সাধারণ ভিডিও অনেক অর্থবহ হয় তার কনসেপ্টের জোরে। অ্যানিমেটেড ভিডিও বানানো কোন ব্যাপার না। আপনি ভালো একটি ভিডিও দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে আকর্ষণ করতে পারেন।

.ফেসবুক অ্যাডঃ

এই অপশনটি উপরের সবগুলো থেকে একটু আলাদা। আপনি যদি রিচ আরো বেশি বাড়াতে চান তাহলে ফেসবুক থেকেই অ্যাডের ব্যবস্থা করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার পেজের দরকার হবে না। আপনি বাজেট আর টার্গেট অডিয়েন্স যদি ঠিক করে দেন, তাহলে ফেসবুক সেভাবে অপ্টিমাইজ করে আপনার ওয়েবসাইটটি তুলে ধরবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি খুবই লাভজনক কৌশল। ফেসবুক অ্যাড সংক্রান্ত বিস্তারিত পড়ে নিতে পারেন এই লিংকে

আমরা যেসব কৌশল আলোচনা করলাম এর বাইরেও অনেক উপায় আছে ফেসবুকে প্রচার ও প্রসার বাড়ানোর। কিন্তু আপনি এই টেকনিকগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন কোন ধরনের পোস্ট মানুষকে বেশি আকর্ষণ করছে। এক্ষেত্রে ফেসবুক এনালিটিক্সের সহায়তা নিতে পারেন। মেধা আর কৌশল খাটিয়ে কাজে নেমে পড়ুন, আশা করছি সফলকাম হবেন।

 

চাই নিজের ফেসবুক স্টোর

(Visited 611 times, 1 visits today)
1

Comments