ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে এগোচ্ছে বাংলাদেশে তাতে করে আগামীদিনের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে ইকমার্স এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর তাই প্রত্যেকদিনই বাড়ছে এখানে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। সবাই শুরু করতে যাচ্ছেন নিজের একটি অনলাইন ব্যবসা। বিগত কয়েক বছর ধরে যেহেতু অনেকেই অনলাইনে ব্যবসা করছেন, তাই কিভাবে কি করতে হয় তার পথঘাট অনেকেরই জানা। কিন্তু সময়ের হাত ধরে নতুনের আবাহনে যে নিত্য নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটছে তার ব্যাপারে সম্যক ধারণা আমাদের অনেকেরই নেই। আজ আমরা কথা বলবো, আধুনিক পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে হয়তো পুরনো, কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আনকোরা একটি সার্ভিস নিয়ে। নাম তার SaaS

 

আপনার নিজস্ব ই-কমার্স সাইট শুরু করার জন্য চাই একটি ওয়েবসাইট, যার ওপর ভিত্তি করে আপনি আপনার স্টোরকে সাজাতে পারবেন। ইকমার্স ওয়েবসাইট বানানোর জন্যে আপনার চাই ওয়েব ডেভেলাপার, পেমেন্ট মেথড কোম্পানির সাথে চুক্তি এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর জন্যে একটা সহজবোধ্য অ্যাডমিন প্যানেল। আধুনিক জগতে এইসব সার্ভিসকে এক করে যে সফটওয়ার বানানো হয় তার নাম হল Software As A Service কিংবা SaaS

এধরনের সাধারণ মডেলের কমতি নেই বাজারে, কিন্তু কোনটি আপনার জন্য, আপনার ব্যবসার জন্য বেশি ভালো? কেবল ভালো হলেই হবে না, সেটি আপনার বাজেটের মধ্যে আছে তো? সাধারণত স্টার্টআপদের ক্ষেত্রে এসব খাতে খুব বেশি খরচের বিলাসিতা থাকে না। সত্য কথা বলতে কী, ছোট বা মাঝারি আকারের ব্যবসায়িক স্টোর চালানোর জন্য এটি অন্যতম সেরা মডেল। এটি একটি ওয়েব ভিত্তিক সেবা যেটি আপনি সাবস্ক্রিপশনের বিনিময়ে আপনার অনলাইন স্টোরের জন্য নিবেন।

 

SaaS এর মাধ্যমে আপনার স্টোর বানাতে চাইলে প্রথমেই সেবাটির জন্য সাইন আপ করতে হবে আপনাকে। তারপর একে একে দিতে হবে সাবস্ক্রিপশন ফী, কিনতে হবে ডোমেইন, ডিজাইন টেমপ্লেট নির্বাচন করে যোগ করতে হবে আপনার পণ্যগুলো। তারপরই চালু করে দিতে পারেন আপনার নিজস্ব অনলাইন স্টোর। এ সবকিছু মিলিয়ে মোটামুটি এক দিনের মত সময় লাগবে আপনার অনলাইন স্টোর চালু করতে।

 

চলুন জেনে নিই কী কী সুবিধা অপেক্ষা করছে আপনার জন্য!

টেকনিক্যাল জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীলতা নেই

SaaS চালানোর জন্য আপনার কোন জটিল টেকনিক্যাল জ্ঞানের প্রয়োজন পড়বে না। সবকিছু তৈরিই করা আছে আপনার জন্য, আপনি কেবল সুনির্দ্দিষ্ট মেন্যু তে গিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনগুলো করবেন আর তাৎক্ষণিক আপনার ওয়েবসাইটে সেই পরিবর্তনগুলো দেখতে পারবেন।

নিজের স্টোর সাজান নিজেই

আপনার জন্য সবকিছু তৈরি করে দেয় বলেই যে আপনি আর কিছু পরিবর্তন করতে পারবেন না ব্যাপারটা কিন্তু এমন নয়। আপনি চাইলেই যেকোন কিছু নিজে থেকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা কর্তন করতে পারেন। কাস্টম টেমপ্লেটের ব্যবস্থা থাকায় নিয়ন্ত্রণ থাকছে আপনার হাতেই।

টেকনিক্যাল কাজ আপনার নয়

কেবল সাইট তৈরিই নয়, এর ব্যবস্থাপনার কাজটিও আপনাকে করে দেওয়া হবে। তাই এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আপনার না করলেও চলছে। হোস্টিং এবং ডোমেইন এর চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেললেই হবে। কারণ আপনার অনলাইন স্টোরের সার্বক্ষণিক আপটাইম নিশ্চিত করবে আপনার SaaS প্রোভাইডার। নিজের স্টোরের ওয়েব মার্কেটিং এর জন্যেও আপনাকে অন্য কোথাও দ্বারস্থ হতে হবে না। কারণ SaaS প্ল্যাটফর্মের ধারণাই এসেছে অনেক সুবিধাকে এক জায়গায় একত্রিত করার ভাবনা থেকে।

যেকোন জায়গা থেকেই চলুক ব্যবস্থাপনা

কেবল ইউজারনেম পাসওয়ার্ড থাকলেই আপনি দুনিয়ার যেকোন প্রান্ত থেকে যেকোন সময়ে আপনার সাইটের ব্যবস্থাপনা চালাতে পারছেন। সেটি হোক পিসি কিংবা মোবাইলে, সবসময় সংযুক্ত থাকুন আর চিন্তামুক্ত থাকুন।

সাশ্রয়ী

আগেই বলেছি, ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যবসার জন্য এর চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে এত ভালো সেবা পাওয়া অসম্ভব। অল্প খরচে এটি আপনার সাইট তৈরি, প্রচার, ব্যবস্থাপনাসহ সবকিছুই করে দিচ্ছে। এছাড়া জরুরি নিরাপত্তার ব্যাপারে অতিরিক্ত কোন টাকাও গুনতে হচ্ছে না আপনাকে।

সবচেয়ে কম সময়ে

সাধারণত একেবারে নতুন করে কিছু একটা বানাতে অনেক সময় লাগে। এখানে আগে থেকেই অনেকগুলো খুব সাধারণ কাজ করে দেওয়া আছে তাই এরচেয়ে কম সময়ে আপনাকে কেউ আপনার ইকমার্স ওয়েবসাইট বানিয়ে দিতে পারবেনা। ভাবা যায় আজ থেকে ২-৩ বছর আগেও নিজের একটি ওয়েবসাইট বানানো কত দুরহ স্বপ্নই না ছিল অনেকের কাছে? এখন সেখানে ১ ঘন্টার মধ্যেই পুরোপুরি নিজের একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব।

এক জায়গায় সব সুবিধা

শুধু ওয়েবসাইট বানালেই তো হয়না। সাথে নিতে হয় আনুষঙ্গিক সার্ভিস যা কিনা আপনার অনলাইন ব্যবসাকে পরিপূর্ণ করবে। আপনি নিজে কেন এতো জায়গায় দৌড়িয়ে এতো কিছু ম্যানেজ করবেন। আপনাকে তো ব্যবসাটাও সামলাতে হবে। আপনার এইসব ঝক্কি কাঁধে তুলে নেয় SaaS প্রোভাইডার। আপনার হয়ে আগে থেকেই সে এসব চুক্তি করে রাখবে। আপনি এসে কেবল এই সার্ভিসগুলো সাবস্ক্রাইব করবেন।

 

এত সুবিধার মাঝেও মুদ্রার উল্টো পিঠে কিছু ব্যাপার স্যাপার আছে, চলুন সেগুলোও একটু জেনে নিই।

থার্ড পার্টির কাছে ডাটা চলে যাওয়া

যেহেতু আপনি আপনার সাইটের সম্পূর্ণ দায়িত্ব একটি মডেলকে দিচ্ছেন, তাই এর ব্যবস্থাপক আপনার সব তথ্য পেয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। অনেকেই এটাকে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখতে পারেন, কিন্তু আসলে অনেক ভেন্ডরই থাকেন যারা কিনা আপনার সব ডাটাই এনক্রিপ্টেড অবস্থায় নেবেন। তাই নিশ্চিত হয়ে নিন টার্মস এন্ড পলিসি এর ব্যাপারে।

SaaS প্রোভাইডারের পলিসি পরিবর্তন

আপনার SaaS প্রোভাইডার চাইলে যেকোন সময় তার পলিসি/ফিস পরিবর্তন করতে পারেন। অনলাইন স্টোরের জন্য নতুন কোন ফিচারও হয়তো তারা সিস্টেমে আনতে পারেন যেটি আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে কথা বলে নিন যে ফিচারটি আপনি চাইলে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন কিনা। তবে অধিকাংশ প্রোভাইডর ই সাধারণত এই ধরনের ফ্লেক্সিবল অপশন রেখে থাকেন তাদের সিস্টেমে।

আপনার ওয়েবসাইট লীজ এ

যতক্ষণ আপনি SaaS ভিত্তিক সফটওয়্যারে কাজ করছেন, আপনার কপিরাইট সম্পূর্ণ আপনার থাকছে না। তবে কোম্পানির লোগো, স্বত্বাধিকার –এসব আপনারই থাকছে। কিন্তু আপনি ফী দেওয়া বন্ধ করামাত্র আপনার সাইট ডাউন হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে।

 

এ লেখায় মূলত SaaS এর বেসিক কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ধারণা একেবারেই নতুন হলেও আধুনিক বিশ্বে এখন এই সেবারই জয়জয়কার। Storrea তেমনই একটি সার্ভিস। যেখানে আপনি নিজের অনলাইন স্টোর তৈরি করতে পারবেন নিমেষেই। Storrea যেমন ইকমার্সে SaaS প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করছে, তেমনই অন্যান্য খাতও পিছিয়ে নেই। সব সার্ভিসকে এক জায়গায় এনে ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কমানোই এই সার্ভিসের মূল লক্ষ্য।

নিকট অতীতে এর ব্যাপক সাফল্য আমাদের আশাবাদী করার জন্যে যথেষ্ট। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ছোট থেকে মাঝারি আকারের অনলাইন স্টোরের জন্য আরও বেশি জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে ছড়িয়ে যাবে- এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কারণ প্রযুক্তি যখন হাতের মুঠোয়। স্বপ্ন দেখতে আর বাঁধা কি? আজই নেমে পড়ুন নিজের কোন পণ্য নিয়ে।

 

 

স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে পেতে চাই নিজের ওয়েবসাইট

(Visited 664 times, 1 visits today)
1

Comments