বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে (নভেম্বর,২০১৬ এর হিসাব অনুযায়ী) ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ। এই তথ্য থেকে খুব স্পষ্টভাবেই বুঝা যায় আমাদের দেশের অনলাইন ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু ফেসবুক।

ফেসবুকের একমাত্র(৯৭%) আয়ের উৎস “ফেসবুক এড”। ২০১৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী ফেসবুকের দৈনিক আয় ৬২২ কোটি টাকা (সুত্রঃ দ্যা টেলিগ্রাফ)। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ফেসবুক এড দেওয়া হয়। এই ব্যপারে সঠিক কোন তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হয় বর্তমানে সারাদেশে দশ হাজারের ও বেশী ফেসবুক পেজ থেকে পণ্য বেচা-কেনা হচ্ছে।

ডলার পেমেন্ট করার মত একটি বিশ্বস্ত পেমেন্ট সিস্টেম যদি কারো থাকে যে কেউই ফেসবুকে এড চালাতে পারেন। তাছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে প্রফেশনাল ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি গুলোর মাধ্যমে এড ক্যাম্পেইন চালানো ব্যয় বহুল হওয়ায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা নিজেরাই নিজেদের ফেসবুক এড গুলো চালিয়ে থাকেন। নিজের এড চালানোর কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। ফেসবুক প্রতিনিয়ত তাদের এড এলগোরিদম পরিবর্তন করে। যারা সেইগুলো সম্পর্কে আপডেট রাখেন না তাদের অনেক সময়ই বলতে শোনা যায় যে ফেসবুকে রিচ কমে গেছে।

২০১৩-১৪ সাল ছিলো ফেসবুকের জন্য বাংলাদেশ বাজার তৈরির সময়। যারা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে এডভারটাইজার হিসেবে কাজ করছেন তারা জেনে থাকবেন ওই সময়ের আগে বাংলাদেশে বিভাগ অনুযায়ী অডিয়েন্স সিলেক্ট করার অপশন ছিলো না। বাংলাদেশ এ ফেসবুক এড জনপ্রিয় করার উদ্দেশে ফেসবুক তখন খুব অল্প খরচে ভালো রিচ দিতো এমনকি তখন অরগানিক রিচ ও তুলনামূলক ভাবে এখন থেকে অনেক বেশী ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে তা অনেক কমে এসেছে।

বর্তমানে ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কয়েকটি ব্যাপারে নজর রাখতে হবে। প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে আপনার উদ্দেশ্য কি? বুঝতে হবে যে বেশী বেশী রিচ পাওয়া আপনার উদ্দেশ্য না, আপনার উদ্দেশ্য সঠিক ক্রেতার কাছে পৌঁছানো এবং বিক্রি।

ফেসবুক সব সময় চায় তার ইউজারের হোমপেজ কে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য রাখতে। এটি ফেসবুক তার নিজের স্বার্থেই করে থাকে যাতে কন্টেন্টের কোয়ালিটি কখনোই কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচে না নামে। যার কারণে ফেসবুকে এড দেওয়ার ক্ষেত্রে কন্টেন্টের প্রাধান্য অপরিসীম। ভালো কন্টেন্ট না হলে ফেসবুক তা সহজে তার ইউজারের হোমে পাঠায় না।

নিচে ফেসবুকে পণ্য বিক্রির জন্য এড দেয়ার ক্ষেত্রে যেই সকল বিষয়ে লক্ষ্য রাখা উচিত সেগুলো নিয়ে  সংক্ষেপে আলোচনা করা হল:

প্রোডাক্টঃ

পণ্য বিক্রয়ের জন্য সবার আগে আপনাকে নজর দিতে হবে আপনার পণ্যের দিকে। আপনি যেই পণ্যটি বিক্রি করতে চাচ্ছেন তার গুণগত মান কেমন, এই পণ্যের চাহিদা কেমন, আর কেউ এই পণ্য নিয়ে অনলাইনে কাজ করছে কিনা এই বিষয় গুলো প্রথমে জেনে নিতে হবে।

টার্গেট কাস্টমারঃ

আপনার পণ্যের টার্গেট কাস্টমার কারা সেটা সঠিক ভাবে এনালাইসিস করতে পারার উপর আপনার অর্ধেক সফলতা নির্ভর করে। কোন পণ্য কাদের জন্য, কারা এর ব্যবহারকারী এই বিষয় গুলো সম্পর্কে বিষদ ধারণা থাকতে হবে। অনেককেই দেখা যায় ফেসবুকে এড দেওয়ার সময় বিশাল পটেনশিয়াল মার্কেট টার্গেট করে ২-৫ ডলারের এড পোস্ট করেন। যা সম্পূর্ণ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

কন্টেন্টঃ

ফেসবুকে ৩ ধরণের কন্টেন্ট ব্যবহার করে এড দেওয়া যায়- টেক্সট, গ্রাফিক্স, অডিও ভিজুয়াল। বর্তমানে ফেসবুক কন্টেন্ট হিসেবে অডিও ভিজুয়ালকে বেশী প্রাধান্য দিচ্ছে। গ্রাফিক্স ইমেজ এর ক্ষেত্রেও ফেসবুকের কিছু রিকোমেণ্ডেড সাইজ বলে দেওয়া আছে। অনেককেই দেখা যায় গুগল থেকে সরাসরি ছবি ডাউনলোড করে তা দিয়েই এড চালান এমনকি টেক্সটও কপি করেন অথবা একি রকম টেক্সট বার বার দেন। কন্টেন্ট হতে হবে আকর্ষণীয়, ইউনিক। এর উপরই ক্রেতার আগ্রহ নির্ভর করে। এমনকি কন্টেন্ট ডিজাইনের সময় আপনার টার্গেট কাস্টমার কারা সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে।

কাস্টমার সাপোর্টঃ

অনলাইন ব্যবসা একটি সেবা নির্ভর ব্যবসা। মানুষ অনলাইনে অর্ডার দিচ্ছে ঝক্কি-ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য। তাই কাস্টমার এর কমেন্ট, মেসেজ ও ফোনকল গুরুত্বের সাথে নিতে হবে এবং অল্প সময়ে সুন্দর ভাবে তথ্য প্রদান করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে তাকে সাহায্য করার। ফেসবুকে ভালো কন্টেন্ট দিয়ে, টাকা খরচ করে, সঠিক কাস্তমারের কাছে পৌঁছেও যদি কাস্টমার সাপোর্টের কারনে বিক্রি না হয় তাহলে তা হবে খুবই দুঃখজনক।

এছাড়াও আরও কিছু খুঁটিনাটি বিষয় আছে যেগুলোর একটি সফল ফেসবুক এডের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ডেলিভারি যদি নিজে না করেন তাহলে যেই তৃতীয় পক্ষের সাথে ডেলিভারি নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হবেন তাদের সাথেও সঠিক যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

এই বিষয় গুলো নিয়ে সরাসরি আরও বিস্তারিত আলোচনা, লাইভ ডেমো এবং সুন্দর সমাধানের জন্য আগামি ১৯,নভেম্বর, শনিবার জনতা টাওয়ারের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে স্টোরিয়া আয়োজন করতে যাচ্ছে একটি ফ্রি ওয়ার্কশপ। E-commerce Association Of Bangladesh(E-cab) এর প্রেসিডেন্ট রাজীব আহমেদও বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকছেন এই ওয়ার্কশপে।

অংশগ্রহণকারীদের কোন প্রকার ফি প্রদান করতে হবে না। তবে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় বৃহস্পতিবারের পূর্বেই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

এই ইভেন্টে যোগ দিতে চাইলে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারেন এই লিংকেঃ

https://goo.gl/PPW2Ct

ফেসবুকে ইভেন্ট লিঙ্কঃ

goo.gl/RpuV4T

 

(Visited 845 times, 1 visits today)
2

Comments