ছোট বাচ্চারা মার্কেটে গেলেই সবচেয়ে রংচঙা বই বা খেলনাটার দিকেই কেন যেন হাত বাড়িয়ে দেয় সবসময়।ভাবুন তো, একটা ছোট্ট ডিম খুললেই ভিতরে চকলেট আর একটা খেলনা পেলে পিচ্চিরা কত খুশি হয়, কিন্ডারজয় এই কৌশল দিয়ে মার্কেট আর পিচ্চিদের হৃদয় দুটোই দখল করে নিলো।

অনলাইনে কিছু অর্ডার দিলে সেটা কবে আসবে এই চিন্তাই মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। বেল বাজলে বাচ্চাদের মতই ছুটে যাই প্রতিবার। বাসায় কিছুর ডেলিভারি আসলে সবাই ছুটে আসে দেখতে, “কি আসল, কেমন হল?”

ই-কমার্স ব্র্যান্ডটির স্ট্যান্ডার্ড দাড় করানোর জন্য অনলাইন বিক্রেতারা মূলত তিনটি জিনিসের উপর জোর দেন।

  • ওয়েবসাইটঃ ওয়েবসাইটের আকর্ষণীয় থিম আর ইউজার ফ্রেন্ডলিনেস।
  • নিয়মিত অফার ও যোগাযোগঃ  কনফার্মেশন মেইল, শিপমেন্ট ডিটেইলস, নিয়মিত প্রোমো অফার, অথবা নিয়মিত ফোন কলের মাধ্যমে  ক্রেতার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করা।
  • স্বকীয় ও উদ্ভাবনী প্যাকেজিংঃ  কাস্টমারের হাতে প্রোডাক্ট, প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল, ইনভয়েস ইত্যাদি যাতে সহজেই পৌঁছায় আর তাতে আপনার নান্দনিক হাতের ছোঁয়া থাকে।

SEO আর ব্র্যান্ডিঙে প্রচুর পয়সা খরচ করে অনেকে প্যকেজিং-এ একদমই মনোযোগ দেন না। আপনাকে অবশ্যই প্যাকেজিং এর গুরুত্বটা উপলব্ধি করতে হবে। ভেবে দেখুন, আপনার পাঠানো প্যাকেজটি যদি যদি নিখুঁত অবস্থায় গিয়ে না পৌঁছায়, যদি দেখা যায় যে প্রোডাক্টের অবস্থা খারাপ, তাহলে কি কি হতে পারে?

  • আপনার কাস্টমার চরম বিরক্ত হয়ে আপনার ব্র্যান্ডকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে মারবে
  • ব্র্যান্ড ইমেজ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে

আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে ডেলিভারির লোকজন প্যাকেজ খুবই রাফলি হ্যান্ডেল করে। এতো এতো প্রোডাক্টের ভিড়ে শুধু আপনার পণ্যকে বিশেষভাবে হ্যান্ডল করার কোন কারণ তাদের নেই। তারা এটা ছুঁড়ে মারবে, পারলে দুটো লাথিও লাগাবে(এদের মেজাজ খারাপের উপর ডিপেন্ড করে আরও কয়েকটা বেশিও পড়তে পারে)। দিনশেষে তাই আপনি ওয়েবসাইট বানাতে যতই পয়সা আর শ্রম দেন না কেন, প্যাকেজিঙের খারাপ অবস্থা দেখে কাস্টমার আপনার সাইটে আর ঢুকবে না।

কিভাবে আপনার প্রোডাক্টটি প্যাক করবেন

  1. Corrugated বক্স ব্যবহার
  2. পেপার এনভেলপ ব্যবহার
  3. Tamper-proof ব্যাগ ব্যবহার
  4. বক্সের ভিতরের ফাঁকা জায়গা বাবল র‍্যাপিং
  5. প্লেন বা প্রিন্টেড টেপ দিয়ে ভাল মত সিলিং

                                         এওয়ার্ড জেতা Puma-এর “The Clever Bag”

 

কিভাবে আপনার স্টোরের জন্য সঠিক প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল বেছে নিবেন

  • Damage Protection: মাথায় রাখুন যে ট্রানজিটের সময় আপনার পণ্যটি খুব সহজেই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। খুব মজবুত আউটার লেয়ারের সাথে ভঙ্গুর পণ্য যেমন ঘড়ি, সানগ্লাস ইত্যাদির ক্ষেত্রে বাবল র‍্যাপিং ইউজ করবেন
  • চুরি সামলানোঃ অনেক সময় দেখা যায় কাস্টমারের হাতে খালি বাক্স যাচ্ছে। চুরির ব্যাপারটি মাথায় রাখতে হবে আপনাকে।
  • প্যাকিং লেয়ারের ওজনঃ শিপিং কস্ট প্যাকিং এর ওজনের সাথে বেড়ে যাবে। আধাকেজি ওজনের পণ্যের জন্য যদি আপনার এক কেজি প্যাকিং দেয়া লাগে তাহলে লস খেয়ে গেলেন।
  • শিপমেন্টের আউটলুকঃ বাস্তবজগতে আপনার কোম্পানির সম্পর্কে আইডিয়া আপনার শিপমেন্টেই ফুটে উঠবে। ওয়েবসাইট যত সুন্দর করেই সাজান না কেন আপনার শিপমেন্ট যদি দুমড়ানো-মোচড়ানো একটা প্যাকেটে আসে তাহলে প্রোডাক্ট অক্ষত থাকলেও আপনার সম্পর্কে একটা নেগেটিভ অ্যাটিচুড তৈরি হবে কাস্টমারের মনে।
  • শিপমেন্টের খরচঃ শিপমেন্ট প্রতি খরচের ক্ষেত্রেও আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রোডাক্ট ভ্যালুর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ শিপমেন্ট কস্ট ব্যবসার জন্য লসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
  • ব্র্যান্ডিং প্রেফারেন্সঃ Buyer রা এত ওয়েবসাইট থেকে পণ্য ক্রয় করে যে তারা নিজেরাই ভুলে যায় কোনটি কোন পোর্টাল থেকে তাদের হাতে আসছে। আপনার এক্ষেত্রে করণীয় কাজ হল প্যাকেজে নিজের ব্র্যান্ডের লোগো প্রিণ্ট করে দেয়া, যে ব্যাগটিতে পাঠাচ্ছেন সেটাতে আপনার ব্রায়ন্ডের সিল দিয়ে দেয়া অথবা এক ডিগ্রি বেশি গিয়ে টেপের উপরও লোগো প্রিন্ট করে দিতে পারেন(কোন ক্ষতি নেই)। কাস্টমারের খেয়াল থাকবে পণ্যটি আপনার কাছ থেকেই তিনি নিয়েছিলেন। খরচ এখানে খুব হচ্ছে, কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হয়ে যাচ্ছে
  • সহজসাধ্য প্যাকিং/আনপ্যাকিংঃ অর্ডার যত বাড়বে সময় তত কম থাকবে হাতে, একটি সহজ প্যাকিং মেথড ব্যবহার করবেন। কাস্টমারের কথা চিন্তা করে করবেন, যাতে তাদের আনপ্যাক করতে বেশি সময় না যায়। আপনার হাতে যদি এমন অর্ডার আসে যে আপনাকে ৩০০০-৬০০০ প্রোডাক্ট পৌঁছে দিতে হবে ২৪/৪৮ ঘন্টায়, তাহলে কি করবেন? এজন্যই বলছি সহজ করে প্যাক করবেন যাতে মিনিমাম এফরট দিয়ে ম্যাক্সিমাম আউটপুট পাওয়া যায়।

ই-কমার্স প্যাকিঙের স্বকীয়তা

নরমাল রিটেইল বিজনেসের প্যাকিং আর ই-কমার্সের প্যাকিং কোনভাবেই এক নয়। আপনার প্রোডাক্ট সাত ঘাটের পানি খেয়ে কাস্টমারের কাছে পৌঁছাবে। ভেঙ্গে যেতে পারে, চুরি হতে পারে আরও কত কিছু হতে পারে। প্রথমদিকে ব্যবহার হত পেপার এনভেলপ, প্রোডাক্ট ঢুকিয়ে পেচিয়ে দেয়া হত এডহেসিভ টেপ দিয়ে। এরপর আসল Corrugated বক্স, ১০০% সেফ, কিন্তু পয়সা খসবে অনেক। দুনিয়া ব্যলেন্সের উপরে চলে, আপনাকেও প্রোডাক্ট কস্ট আর শিপিং কস্টের ভেতর ব্যালেন্স আনতে হবে।
লো কস্ট সল্যুশন নিয়ে এল টেম্পারপ্রুফ পলি ব্যাগ। প্যাকেট ছিড়বেনা, চুরি হবে না, কিন্তু একটা সমস্যা থেকেই গেল, আছাড় প্রটেকশন দেয়া গেল না। Amazon, flipkart, Ebay ইত্যাদি বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন এই মেথড ব্যবহার করছে।
টেম্পার প্রুফ ব্যাগ কেন ব্যবহার করবেন এই ইনফগ্রাফিকটি দেখে বুঝে নিনঃ

untitled-infographic-586x1024

এখানে আপনার আলাদা করে শিপিং লেবেল লাগানোর ঝামেলা নেই, এই প্যাকটির  সাথে থাকছে ট্রান্সপারেন্ট POD জ্যাকেট।
আপনার প্রোডাক্ট প্যাকেজিং এমন হতে হবে যেন এটা প্রোডাক্টের প্রটেকশন নিশ্চিত করে, আপনার ব্র্যান্ড ইমেজ ফুটিয়ে তোলে আর অবশ্যই আপনার জন্য ইকোনমিক হয়। আপনার ইকমার্স স্টোরের সফলতা আসলে অনেক খুঁটিনাটি ব্যাপার এর উপর নির্ভর করে। সব মিলিয়ে আপনি ক্রেতার কাছে নিজের ব্র্যান্ডকে কিভাবে উপস্থাপন করছেন সেই ব্যাপারটিই দিনশেষে খুব জরুরী।

 

হতে চাই সফল অনলাইন উদ্যোক্তা

(Visited 1,043 times, 1 visits today)
2

Comments